একদিকে আলোচনার টেবিলে শান্তির বাণী, অন্যদিকে তার আড়ালে অস্ত্রে শান দেওয়া। অর্থাৎ আমেরিকার কথায় আর কাজে কোনও মিল নেই। ইরান নিয়ে বর্তমানে নাকি এমনই নীতি নিয়েছে ওয়াশিংটন। বিস্ফোরক দাবি করলেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, কূটনীতির আড়ালে ‘গোপনে’ ইরানে স্থল অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা কষছে ওয়াশিংটন। ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে কালিবাফের এই চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।

শত্রু মুখে আলোচনার কথা বলছে, কিন্তু মনে মনে স্থল অভিযানের ছক কষছে’, শনিবার ঠিক এই ভাষাতেই আমেরিকাকে বিঁধেছেন ইরানের স্পিকার। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বর্তমানে যে চরম অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, কালিবাফের এই মন্তব্যেই তা স্পষ্ট। কালিবাফ আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ করে যা জিততে পারেনি আমেরিকা, সেইসব সুবিধাই তারা আদায় করতে চাইছে ‘১৫-দফা দাবি’র তালিকা চাপিয়ে।

আমেরিকান সেনা ইরানের মাটিতে যুদ্ধ করতে আসলে, সেই হুমকির মোকাবিলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে পুরোপুরি প্রস্তুত, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন কালিবাফ। তাঁর হুঁশিয়ারি, ইরান কখনও পিছিয়ে আসবে না। আমেরিকা যদি সরাসরি সামরিক যুদ্ধে জড়ায়, তবে তেহরান ‘কঠোর জবাব’ দেবে। শুধু তাই নয়, ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। কালিবাফের জানিয়েছেন, আমেরিকার সামরিক অভিযানে অন্য কোনও দেশ সহায়তা করলে, তাদেরও পরিণাম ভুগতে হবে।

ইরানি স্পিকারের এই অভিযোগের মাঝেই আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি রিপোর্ট নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। পেন্টাগনের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা দাবি করা হয়েছে, ইরানের মাটিতে সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বিশেষ ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ বা আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরি করছে আমেরিকা। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই পরিকল্পনা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিপোর্ট কালিবাফের আশঙ্কাকে আরও মজবুত করেছে।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আমেরিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ণ-মাত্রার আক্রমণের বদলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যে সীমিত সময়ের অভিযান করা হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র, খারগ দ্বীপ এবং হরমুজ় প্রণালীর উপকূলীয় এলাকা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে স্ট্র্যাটেজিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এলাকাগুলিতে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্স রেইড করলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে আরও বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তাই আমেরিকান পরিকল্পনায় চাপ বাড়ছে গোটা বিশ্বে।