বাজারে আলুর দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, চরম আর্থিক সংকটের মুখে রাজ্যের আলু চাষিরা। ক্রেতার অভাবে কার্যত জলের দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা-সহ বিস্তীর্ণ আলু বলয়ে এখন হাহাকার। মাঠে যে আলু ২-৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, ফড়েদের হাত ঘুরে সেই একই আলু খুচরো বাজারে বিকোচ্ছে ১২ থেকে ১৪ টাকায়!
চন্দ্রকোনার এক চাষি জানান, সোমবার মাঠ থেকে জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কুইন্টাল (২ টাকা/কেজি) এবং K22 আলু বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকা কুইন্টাল দরে। বিঘাপ্রতি আলু চাষে কৃষকদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু ফসল বিক্রি করে ঘরে আসছে মাত্র ২৩-২৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বিঘাপ্রতি ১৬-১৭ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে অন্নদাতাদের। মাঠে এখনও প্রচুর আলু পড়ে রয়েছে। বৃষ্টির আশঙ্কায় ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে ঘাটালে বিক্ষোভেও শামিল হয়েছেন কৃষকরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্স। টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে জানিয়েছেন, তারকেশ্বর থেকে ট্রেনে অসম ও ত্রিপুরায় আলু পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকরা কেজি প্রতি ৫ টাকার কাছাকাছি দাম পাচ্ছেন, যা আগামী দিনে ৬-৭ টাকা হতে পারে। রাজ্য সরাসরি কৃষকদের থেকে ৭-৮ টাকা দরে আলু কিনলেও, রাজ্যের হিমঘরগুলি কানায় কানায় পূর্ণ। ফলে নতুন করে আলু মজুত করার আর তেমন জায়গা না থাকায় দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের।