মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে লাখো মানুষের ঢল

ইনসাইট প্রতিবেদক / ২০ Time View
Update : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নেমেছেন লাখ লাখ মানুষ। অভিবাসননীতি থেকে শুরু করে ইরান যুদ্ধ, নানা ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শনিবার দেশজুড়ে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে অংশ নেয় জনতা।

রয়টার্স, বিবিসি ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ২০০টির বেশি স্থানে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, আগের দুই দফার তুলনায় এবার অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি।

বড় শহরগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনে বিশাল সমাবেশ হয়। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই-তৃতীয়াংশ কর্মসূচিই হয়েছে ছোট শহর ও স্থানীয় কমিউনিটিতে, যেখানে অংশগ্রহণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

মিনেসোটার সেন্ট পলে অনুষ্ঠিত এক বড় সমাবেশে গভর্নর টিম ওয়ালৎস বলেন, “তাঁরা আমাদের কট্টরপন্থী বলেন। ঠিকই বলেন, আমরা মানবিকতা, শালীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত।” তাঁর ভাষায়, এই প্রতিবাদই যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক শক্তির প্রতিফলন।

একই সমাবেশে বক্তব্য দেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা অলিগার্কদের হাতে তুলে দেব না। এই দেশ জনগণেরই থাকবে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। পুলিশের হিসাবে, সেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের একজন হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো বলেন, “ট্রাম্পের আগে কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা ঝুঁকিতে ফেলেননি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান আন্দোলনের মিল টানেন। অংশগ্রহণকারী হলি বেমিস বলেন, “আমরা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছি, স্বাধীনতার জন্য লড়েছি। এখন আবার সেই লড়াই করছি।”

ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলেও গণতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। মেরিল্যান্ডে হুইলচেয়ারে বসে প্রবীণরাও প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদে অংশ নেন। ডালাসে বিক্ষোভ চলাকালে পাল্টা অবস্থান নেওয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী একটি ফেডারেল ভবন ঘিরে রাখলে উত্তেজনা ছড়ায়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, অভিবাসন অভিযান, সামরিক পদক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে রাজা বলা হচ্ছে, কিন্তু আমি রাজা নই। হোয়াইট হাউসও এই বিক্ষোভকে ‘বামপন্থি নেটওয়ার্কের’ প্রভাব বলে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক আবহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Archives