খাতায় কলমে তিনি তৃণমূলে। ঘাসফুলের নির্বাচনী কমিটিতেও (West Bengal Election) তাঁর নাম রয়েছে। কিন্তু তিনি বিজেপির হয়ে ময়দানে নামবেন। পদ্ম-প্রার্থীর হয়ে প্রচারও করবেন বলে জানিয়েছেন। ছাব্বিশের ভোটে এমনই ছবির সাক্ষী হতে চলেছে হুগলি শিল্পাঞ্চল।
আলোচিত ব্যক্তির নাম সুনীল সিং। নোয়াপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। যিনি আবার বর্তমান বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের আত্মীয়। এর জেরেই নাকি তৃণমূলের অন্দরে তাঁকে ঘিরে তীব্র অবিশ্বাস। সেই কারণেই তিনি বিদ্রোহী। তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন।
রবিবার সকালে বিভিন্ন কেন্দ্রের নির্বাচনী কমিটি তৈরি করে তৃণমূল। নোয়াপাড়ার কমিটিতে সুনীল সিংয়ের নাম রয়েছে। আর সেদিন রাতেই এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সুনীল সিং। তিনি বলেন, “এখন আমি পাঁচিলে আছি। যে কোনও মুহূর্তে ঝাঁপ দেব।” ঘাস ভুলে পদ্মের দিকেই ফের তিনি ঝুঁকবেন তা স্পষ্ট করেছেন। সেই সঙ্গে আরও জানিয়েছেন যে ভোটের আগেই তিনি পদ্ম শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন।
গত অক্টোবরে গারুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে সুনীল সিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে পদ্ম ফুল উপহার দেন। তখন থেকেই সুনীল সিংয়ের বিজেপি যোগ নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। এরপর ডিসেম্বরে তৃণমূলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে জানান যে আর কখনও তিনি ঘাসফুল ছাড়বেন না। কিন্তু মাসখানেকের মধ্যেই ফের দোলাচলে সুনীল সিং।
কেন এমন হল? এই ক্ষোভের পিছনে প্রার্থীপদ। নোয়াপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে নিয়ে অসন্তোষ। বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে সুনীল সিংয়ের আপত্তি। আর তাতেই বিপত্তি। প্রার্থীর লড়াইয়ে তো তিনিও ছিলেন। সেটা কেন হল না? সুনীল সিংয়ের জবাব, “অর্জুন সিং আমার আত্মীয় বলে আমার প্রতি অবিশ্বাস।
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তারপর বিজেপি, সব জার্সিই গায়ে চাপিয়েছেন সুনীল সিং। ২০২২ সাল থেকে তিনি তৃণমূলে। ফের তাঁর ফুল বদলের সিদ্ধান্ত। আবার কি বিধানসভার ভোটে লড়বেন? সুনীল সিং বলছেন, “২০২৭ সালে পুরপ্রধান হব। তারপর ২০২৯ সালে বিধায়ক।” ২০২৯ সালে তো লোকসভা ভোট। তখন কীভাবে বিধায়ক হবেন? নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক জানিয়েছেন যে ২০২৬ সালে নোয়াপাড়ায় জিতবেন অর্জুন সিং। ২০২৯ সালে তিনি ব্যারাকপুরের সাংসদ হবেন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা আসন থেকে বিধায়ক হবেন সুনীল। ২০১৮ সালে প্রথমবার বিধায়ক হন সুনীল সিং। সেটাও উপনির্বাচনে জিতে। সেই একই পথে বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সুনীল সিং।